 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
কক্সবাজার, নভেম্বর১৩,(চিটাগাংটুডে ডটকম) ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাই কক্সবাজারে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে বিনিয়োগ করতে এসে অনেকে নানা রকম হয়রানীর সম্মূখীন হচ্ছেন। শুধু তাই নয় বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘস্থায়ী মামলা মোকদ্দমাতেও জড়িয়ে পরছেন ।
পৃথীবির দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের কক্সবাজারের গড়ে উঠছে অনেক হোটেল। দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারিরা এই খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন। কিন্তু সম্প্রতি বিনিয়োগকারিরাই নানা রকম বাধার সম্মুখিন হচ্ছেন। তারা শিকার হচ্ছেন দখল,বেদখল আর হামলা মামলার । একাধিক বিনিয়োগকারি প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন। অনেকেই আশংকা করছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে কক্সবাজারে পর্যটনখাতে বিনিয়োগ হ্রাস পেতে পারে।
ইনানি সৈকত এলাকায় পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণকারি প্রতিষ্ঠান রিগস গ্রুপের প্রকল্প সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম জানান, ইনানিতে তাদের ২২ তলা বিশিষ্ট তারকা হোটেলের নির্মাণ কাজ চলছে। গত ২৭ অক্টোবর একদল সন্ত্রাসি পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমীর বর্তমান অধ্যক্ষ ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের নাম ভাঙ্গিয়ে ওই প্রকল্পে হামলা চালায়। তিনি জানান, হামলাকারির রিগস গ্রুপের জমিটিতে সাইনবোর্ডও টাঙ্গিয়ে দেয়। ওই সাইনবোর্ডে দাবি করা হয় এই জমির মালিক তৌহিদ হোসেনের দুই মেয়ে সীমা হোসেন ও তনিমা হোসেন, মোশাররফ হোসেনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ঠিকানা দেয়া হয়, বেলাবো, নরসিংদি। পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন জানান, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন দাবি করছেন, জমিটি তাদের। রিগস গ্রুপ রাতের আঁধারে টিনের ঘেরা দিয়ে জবর দখল করেছে। এই বিষয়ে দুটি পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তারপরই বলা যাবে আসলে জমিটি কার।
তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি।
জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে নিরাপত্তা চেয়ে দেয়া রিগস গ্রুপের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারি প্রতিষ্ঠান রিগস গ্রুপ কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন। সেই বিনিয়োগের অংশ হিসেবে একই সাথে ইনানিতে ২২ তলা পাঁচ তারকা হোটেল ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে ইকো রিসোর্ট নামে একটি হোটেলের কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কক্সইন নামে পাঁচ তারকা হোটেলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। হয়েছে। রিগস গ্রুপের কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, উখিয়া র একজন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বেই ইনানি এলাকায় জমি জবরদখল, সাইনবোর্ড সরানোসহ নানা ভাবে বিনিয়োগকারিদের হয়রানি করা হচ্ছে। এদিকে কক্সবাজার শহরে হোটেল মোটেল জোনে তারকা হোটেল সীগালের নিরাপত্তা কর্মীরা ফ্যালকন গ্রুপের নির্মাণাধীন হোটেল প্রকল্পে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ফ্যালকন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১০ জন আহত হয়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনাও ঘটেছে। হোটেল সীগাল কর্তৃপক্ষ করছেন, ফ্যালকন তাদের হোটেল নির্মাণে সীগালের বাউন্ডারি দেয়ালের পাঁচ গজের মধ্যে পিলার নির্মাণ করছেন। অথচ হোটেল সীগাল বাউন্ডারি দেয়ালের উপরেই তাদের ভবন নির্মাণ করেছেন।
|