|
মোহাম্মদ ইলিয়াস/রাঙ্গামাটি নভেম্বর ২৪ (চিটাগাংটুডে ডটকম)বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের প্রথম দিনে নয় বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আমলে নিয়েছে বিশেষ বিচারিক আদালত-৪। মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত এই আদালত ১২ ব্যাটালিয়নের রাজনগর ক্যাম্পের ৫ বিডিআরকে শ্যোন এরেষ্ট দেখিয়ে মোট ৯ বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাও জারি করেছে। নয় বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানা হত্যাকান্ড ও বিদ্রোহে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মকর্তাদের সাথে উদ্যোত আচরন,তর্কার্তকি,হইহল্লাসহ কর্মক্ষেত্রে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহের প্রথম অভিযোগ উত্থাপন করেন,১২ রাইফেল ব্যাটালিয়ানের ডিএডি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। প্রসিকিউর লেঃ কঃ হাবিবুল করিম অভিযোগের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন দীর্ঘ ৯মাস তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সাক্ষ্য দ্বারা প্রমানিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান। বিডিআর বিদ্রোহের বিচারে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৪এর বিচারক প্যানেলের প্রধান বিডিআর মহাপরিচালক মইনুল ইসলাম অপর দুই সদস্য লেঃকঃ আব্দুর রব ও মেজর আ.জ.ম.গোলাম মোস্তফা শামীম এবং এ্যর্টনি জেনারেলের পক্ষে ডেপুটি এ্যর্টনি জেনারেল সোহরাব উদ্দিন বিকেল ৩টায় বিশেষ আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রথমে নব গঠিত বিচারক প্যানেলকে শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রথমে তিন সদস্যের প্যানেলকে শপথ বাক্য পাঠ করান ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সোহরাব উদ্দিন। পরে বিচারিক প্যানেলের প্রেসিডেন্ট বিডিআর মহা পরিচালক মইনুল ইসলাম ডেপুটি এ্যটর্নি জেনারেলকে শপথ বাক্য পাঠ করান। অভিযোগ ও যুক্তি আমলে এনে বিজ্ঞ আদালত রাঙ্গামাটি জেলা করাগারে আটক ৫জন কে শ্যোন এ্যারেষ্ট ও ১২ ব্যাটালিয়ানের হেফাজতে থাকা ৪ বিডিআর বিদ্রোহীকে ব্যাটালিয়ানের জিম্মায় রেখে তথা গ্রেফতার করে আগামী ধার্য্য তারিখ ২৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় আদালতে উপস্থিত করার নির্দেশ দেয়। মঙ্গলবার যাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আদালত-৪ এ অভিযোগ তোলা হয়েছে তারা হলেন, মৌলবী বাজার জেলার কুলাউরা থানার খিদিমপুরের মৃত মাহবুব মিয়ার পুত্র হাবিলদার শিব্বির আহম্মদ,টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার আইসরার মৃত বেলায়েত হোসেনের পুত্র হাবিলদার সোহরাব হোসেন,চাঁদপুর জেলার মতলব থানার দিঘদির আব্দুর রব প্রধানিয়ার পুত্র সিপাহী আব্দুর রহমান,বি-বাড়িয়া জেলার মসলিশপুর থানার মৃত লাল মিয়ার পুত্র সিপাহী শামসুল হক, ও রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার চরলক্ষীপুরএর মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র সিপাহী মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এবং ১২ ব্যাটালিয়ানে আটক ৪ সদস্য সাখাওয়াত হোসেন,রাসেল করিম,জহির উদ্দিন, ও সরওয়ার কামাল । আদালতে সহকারী প্রসিকিউটার ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তাকে সহায়তা করেন মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। এডভোকেট কাজল এ প্রতিনিধিকে বলেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা প্রমানিত হলে সর্ব্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও একশত টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত বিকেল ৩টায় বসে এবং প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী হয়। আদালত ২৫ নভেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। বিদ্রোহীদের হাতে ৫৭ জন কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রান হারায়। এ বিদ্রোহের সাথে দেশের বিভিন্ন বিডিআর সেক্টরের বিডিআর জওয়ান বিদ্রোহের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে। বিদ্রোহের ঘটনার পর বিদ্রোহের অভিযোগে অন্যান্য সেক্টরের বিদ্রোহী বিডিআরদের মতো রাঙ্গামাটি সেক্টরের ৫টি ইউনিটের ৩৯ জন জোয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। রাঙ্গামাটি শহরকে রাব পুলিশ, বিডিআর, ও সাদা পোষাকধারী গোয়েন্দো সংস্থার লোকজন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের জন্য রাঙ্গামাটি বিডিআর সেক্টরে স্থাপিত বিশেষ বিচারিক আদালত-৪ কে ঘিরে এ নিরাপত্তা ব্যাবস্থা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৯৭২ সালের বিডিআর আইনে বিচার করা হবে। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আটককৃতদের পর্যায়ক্রমে এ বিশেষ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ বিশেষ আদালতে শুধু বিডিআরে বিদ্রোহের বিচার করা হবে। বিচার হবে খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামের বিদ্রোহী সদস্যদের। বিদ্রোহের অভিযোগে আটক বিডিআর সদস্যদের মঙ্গলবার কারাগারে ডাক্তারী পরীক্ষার করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহের ১ম বিচারিক কার্যক্রম রাঙ্গামাটিতে শুরু হওয়ায় সারাদেশের মানুষের নজর এখন রাঙ্গামাটির দিকে। উতখন্টায় রয়েছে অভিযুক্তদের আত্মীয় স্বজনরা| অনেকেই রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবে ফোন করে বিচার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। কারাগারে আটক অভিযুক্তদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে । জেলার সর্বত্র বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।র্যাব, পুলিশ, বিডিআরর পাশাপাশি সাদা পোষাকধারী গোয়েন্দা টীম শহরকে ঢেকে দিয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। রাঙ্গামাটি সেক্টরের সকল অস্ত্র ক্লোজ করা হয়েছে। |