|
|
| - বঙ্গোপসাগরে ঘূর্নিঝড় লায়লা, ২নম্বর সংকেত |
2010-05-19 |
|
|
চট্টগ্রাম, মে ১৯ (চিটাগাংটুডে ডটকম) বঙ্গোপসাগরের দক্ষিন পশ্চিম এলাকায় সৃষ্ট ঘুর্নিঝড় "লায়লা"কিছুটা অগ্রসর হয়ে দক্ষিন পশ্চিম বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি আরো ঘনিভূত হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।চট্টগ্রাম, মংলা ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া দপ্তর। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কারণে সাগর অনেক উত্তাল থাকবে । উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দরেও নেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। |
| |
|
| - কক্সবাজার উপকূলে ১৫ জেলের মৃত্যূর আশংকা |
2009-12-07 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
কক্সবাজার, ডিসেম্বর ৭ (চিটাগাংটুডে ডটকম) কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে জলদস্যুরা একটি মাছ ধরার ট্রলারের ১৭ মাঝি মাল্লাকে হাত পা বেঁধে সাগরে ফেলে দিয়েছে। এদের মধ্যে দুজন প্রাণ নিয়ে উপকূলে ফিরে আসতে পারলেও ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জলদস্যুরা ৩ হাজার ইলিশ মাছ, মেশিন ও যন্ত্রাংশ লুট করে ট্রলারটি পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছে। ওই ট্রলারের দুই জেলে আবু তাহের (৩২) ও সৈয়দ উল্লাহকে (৩০) অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার উদ্ধার করে বাঁশখালী উপকূলে নিয়ে আসে। ওখান থেকে তারা গাড়িতে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন। কক্সবাজার শহরতলীর উত্তর নুনিয়া ছড়া এলাকার ট্রলার মালিক ছালামত উলস্নাহ জানান, তার মালিকানাধীন এফবি এন হক নামের মাছ ধরার ট্রলারটি গত ২ wWm¤^i মাছ শিকারে সাগরে যায়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ৫টি ট্রলার নিয়ে জলদস্যুরা তার ট্রলারটিকে ঘিরে ফেলে। তিনি জানান, জলদস্যুরা মাছ ধরার ট্রলারটির মাছ, মেশিন ও যন্ত্রাংশ লুট করে। একই সময়ে ট্রলারটির ১৭ জন মাঝি মাল্লাকে মারধর করে জলদস্যুদের ট্রলারে তুলে নেয়া হয়। ট্রলারটি ডুবিয়ে দিয়ে কিছুদূর পরপর হাত পা বেঁধে দুইজন করে জেলেদের সাগরে ফেলে দেয়া হয়। উপকূলে ফিরে আসা দুই জেলে আবু তাহের ও সৈয়দ উল্লাহ জানান, তাদের দুজনকেও হাত পা বেঁধে সাগরে ফেলে দেয় জলদস্যুরা। সাগরে ফেলে দেয়ার পর টানাটানিতে কোন রকমে তাদের হাত পায়ের বাঁধন আলগা হয়ে যায়। এক সময় নিজেরাই বাঁধন খুলে ফেলতে সক্ষম হয়। জেলে আবু তাহের বলেন সাগরে ভাসতে ভাসতে আরেকটি মাছ ধরার ট্রলার আমাদের দুজনকে উদ্ধার করে। ওই ট্রলারটি আমাদের বাঁশখালী উপকূলে নিয়ে যায়। বাঁশখালী থেকে রোববার সন্ধ্যায় আমরা গাড়িতে উঠি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরে পৌঁছি। জেলে সৈয়দ উল্লাহ জানান, উল্লাহ না বাঁচালে আমাদের বাঁচার কথা নয়। জেলেরা যেভাবে বেঁধে আমাদের সাগরে ফেলেছে তাতে নিশ্চিত মৃত্যু হওয়ার কথা। তারা দুজনেরই ধারণা, সাগরে ফেলে দেয়া ১৫ জেলের কেউ বাঁচার কথা নয়। হয়তো তারা মরেই গেছে।
ফিশিং ট্রলারটির মালিক ছালামত উলস্নাহর বড় ভাই মোহাম্মদ হানিফ জানান, তারা এখনো জেলেদের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে থানায় এখনো অবহিত করা হয়নি বলেও তিনি জানান।
|
| |
|
| - সীতাকুন্ডে বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কমিটি গঠন |
2009-12-03 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
চট্টগ্রাম, ডিসেম্বর ৩, (চিটাগাংটুডে ডটকম)চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের সমুদ্র উপকুলে শিপইয়ার্ড নির্মাণের নামে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীর বৃক্ষ নিধন ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৩ সদস্যের পুলিশ তদন্ত কমিটি গঠন করা করেছে। উক্ত কমিটি বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল সোনাইছড়ির ঘোড়ামারা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মকবুল হোসেন ভূইয়ার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, ডিআইজির স্টাফ অফিসার এএসপি সাইফুল হক। তদন্ত দলের সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমেনা বেগম চিটাগাংটুডে ডট কমকে বলেন, এই তদন্ত দল সীতাকুন্ড এলাকায় বৃক্ষ নিধন ঘটনার সাথে সরকার দলীয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং শিল্পপতি জড়িত থাকার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন। সীতাকুন্ডের ঘটনার উপর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদের সত্যতা যাচাই বাছাই করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা গাছ নিধনের সাথে যুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গাছ নিধনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভূক্ত একজন আসামী দিদারুল ইসলামকে বুধবার রাতে নগরীর কাট্টলীস্থ বাসা থেকে পুলিশ আটক করেছে। দিদার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর ছোট ভাই আবু তাহেরে পুত্র। এছাড়াও উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের গাছ কাটার সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন রাঘব বোয়াল কে ধরতে তাদের বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে সীতাকূন্ড পুলিশ এইসব অভিযানের ব্যাপারে মুখ খোলেনি। এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো প্রায় ১৩শ ব্যক্তির নামে একটি মামলা হয়েছে সীতাকুন্ড থানায়। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনে সীতাকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে গতকাল বিকালে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করেছে। |
| |
|
| - সীতাকূন্ডে গাছকাটার প্রতিবাদে মানব বন্ধন,ওসি স্ট্যান্ড রিলিজ |
2009-12-02 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
চট্টগ্রাম, ডিসেম্বর ২,(চিটাগাংটুডে ডটকম) সীতাকুণ্ড উপকূলীয় বনাঞ্চলে গাছ নিধনের একের পর এক ঘটনা এবং আইন শৃংখলা অবনতির ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে সীতাকূন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে। এইদিকে ন্যাক্করজনক এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, সীতাকূন্ডে বারবার এই রকম ঘটনা ঘটছে। এতে ওসির কর্তব্যে অবহেলার প্রমান পাওয়া গেছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যৈ নায়ক রাঘব বোয়ালরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। সীতাকুণ্ড বনাঞ্চলে গাছ নিধনকারী মূল হোতাদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবিতে নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উন্নয়নে নাগরিক মৈত্রী, জনউদ্যোগ ও পিপলস্ ভয়েস। বুধবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকার রক্ষাকবচ সবুজ বেস্টনি ধ্বংসের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সামপ্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ড অঞ্চলে প্রায় ২৫ হাজার গাছ হত্যাকারী আসল হোতাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি বলে ওই দুর্বৃত্তরা আরও অধিকতর সংগঠিত হয়ে বনাঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করার মতো সাহস দেখিয়েছে। বক্তারা বলেন, দুই বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের যোগ সাজশে যেসব মুনাফালোভী শিপইয়ার্ড ব্যবসায়ী সীতাকুণ্ড অঞ্চলে শিপইয়ার্ডের নামে হাজার হাজার গাছ কেটে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-মাল হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উন্নয়নে নাগরিক মৈত্রীর আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, অধ্যাপক মো. ইদ্রিস আলী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এম এ নাসের, রেহানা বেগম রানু, অধ্যাপক ইউনুছ হাসান, অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক নিরুপম দাশ গুপ্ত, চৌধুরী ফরিদ, আজাদ তালুকদার, আবুল বাসার, মোস্তফা কামাল যাত্রা, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, কায়সার আলম, প্রীতম দাশ, প্রকৌশলী রূপক চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পরিবেশকর্মী শরীফ চৌহান।
এছাড়াও মানববন্ধনে খেলাঘর, সীতাকুণ্ড পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটি, ইপসা, বিএনপিএস, আশাতরু, সংশপ্তকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক পরিবেশ-সচেতন প্রতিনিধিক উপস্থিত ছিলেন।
|
| |
|
| - সীতাকুণ্ডে গাছ কাটার ঘটনায় ১৩০০ জনকে আসামী করে মামলা |
2009-12-01 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
চট্টগ্রাম, ডিসেম্বর ১ (চিটাগাংটুডে ডটকম) সীতাকুণ্ডে রাতের আঁধারে উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনীর সহস্রাধিক কেওড়া গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় বন বিভাগ ১৪জনকে বিবাদী করে অজ্ঞাতসহ মোট ১৩০০জন কে আসামী করে সীতাকুণ্ড থানায় গত ৩০ নভেম্বর রাতে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। গণহারে মামলা হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছে। বন বিভাগ কর্তৃক এই মামলায় ঘটনার মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। স্থানীয় গ্রামের নিরীহ মানুষকে এই মামলায় জড়িয়ে বনবিভাগ লোক দেখানো এই ভূমিকা নিয়েছে। এধরনের মামলার ঘটনায় স্থানীয় মানুষ বিক্ষুদ্ধ। উল্লেখ্য যে, গত ২৯ নভেম্বর রবিবার দিবাগত রাতে একটি মহল শীপ-ব্রেকিং ইয়ার্ড করার জন্য বনবিভাগ কর্তৃক রোপিত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গাছ কেটে ফেলে। সূত্র জানায় গত রবিবার শীপ ব্রেকিং মালিকদের একটি চক্র কর্তৃক নিয়োজিত কয়েকশ লোক মাত্র ৩ ঘন্টা সময়ে সহস্রাধিক কেওড়া গাছ কেটে ফেলে। খবর পেয়ে র্যাব ৭ চট্টগ্রামের একটি দল এবং সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে তারা গাছ কাটা ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় রাব ও পুলিশ সদস্যরা গাছ কাটার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ ব্যক্তিকে আটকও করে। বুধবার সকালে উপকুলীয় বনের বাঁশবাড়িয়া বিট কর্মকর্তা হাসান মিয়ার নেতৃত্বে বনবিভাগের লোকজন কিছু কাটা গাছ উদ্ধার করে। হাসান মিয়া জানান, ১৯৯০ সালে বন বিভাগ ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় এই কেওড়া. বাইন প্রভৃতি গাছগুলি সীতাকুণ্ড উপকুলকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য লাগিয়েছিলো। এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় বাঁশবাড়িয়া বিট কর্মকর্তা হাসান মিয়া বাদী হয়ে ৩০ নভেম্বর রাতে সীতাকুণ্ড থানায় বিবাদী ১৪ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরো ১২০০/১৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করেন (মামলা নং ২২/২৭৬, তাং ৩০/১১/২০০৯)। মামলায় ঘটনার সময় পুলিশ ও রাবের হাতে আটক ৬ আসামীকে এই মামলায় আসামী দেখানো হয়। বনবিভাগ কর্তৃক এই মামলায় ষাটোর্ধ্ব মানুষকে আসামী করা হলেও ঘটনার মূল হোতারা মামলা সূত্রে অজ্ঞাত রয়ে গেছে। এই মামলার ঘটনায় এলাকার সাধারন মানুষ বিক্ষুদ্ধ। তারা বলেন, এই মামলার মাধ্যমে বনবিভাগ তাদের দায় মুক্তির একটি লোক দেখানো মামলা করেছে। প্রকৃত দোষীরা এই মামলার সুযোগে আড়ালে থেকে যাবে। এলাকাবাসী আরো দাবী করে, এই গাছ কাটার ঘটনা হঠাৎ করে হয়নি। তিপূর্বে এর প্রস্তুতি সম্পর্কে বনবিভাগসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও জানতেন। বনবিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এধরনের ঘটনা সংঘটিত হলেও তারা কোন পূর্ব প্রতিকার ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনার পর এধরনের আরো একাধিক মামলা দায়ের করে। প্রতিটি মামলার ফলাফল কোন কার্যকারিতা পায়নি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উল্লেখিত চক্র একের পর এক বন উজাড় করে চলেছে। এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় উত্তর জেলা বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর নাম আসায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যে এলাকায় বন বিভাগের গাছ কাটা হয় সেখানে তার কোন ইয়ার্ড নাই ও ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা নাই। সংশ্লিস্ট মহলটি নিজেদের দায় ঢাকার জন্য সেখানে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে তার নামে অপপ্রচার চালিয়েছে। তিনি প্রকৃত দোষীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। সীতাকূন্ডে গাছ কাটার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীণ বেল্ট। গ্রীন বেল্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনে যেখানে সারা বিশ্ব কাজ করছে সেখানে আমাদের দেশে এভাবে গাছ উজাড় করা আত্মঘাতী কাজ। বিবৃতিতে তারা এই জঘন্য কাজের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। |
| |
|
| - সীতাকুন্ডে আবারো উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীতে দুর্বৃত্তের থাবা |
2009-11-30 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
চট্টগ্রাম নভেম্বর ৩০(চিটাগাংটুডে ডটকম) সীতাকুন্ডে আবারো রাতের আধাঁরে দুর্বৃত্তরা উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনীর কয়েক হাজার গাছ কেটে নিয়ে গেছে। আর গত এক বছর ধরে এভাবে অতি মূল্যবান উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী ধ্বংসের মহোৎসব চললেও কিছুই করতে পারছেনা প্রশাসন। এই বেষ্টনীর মালিক কর্তৃপক্ষ বন বিভাগেরও তাকিয়ে থাকা ছাড়া যেন অন্য কোন উপায় নেই। রোববার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কুমিরা সংলগ্ন ঘোড়ামারা উপকুলের প্রায় ৫ একর জমিতে বনবিভাগের লাগানো দেড় হাজার গাছ কেটে নিয়েছে। ৪টি শিপ ইয়ার্ড তৈরির জন্য ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের একটি সিন্ডিকেট এসব গাছ কেটে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ১১টার দিকে ঘোড়ামারা এলাকার সমুদ্র উপকুলে শিপ ইয়ার্ড মালিকদের নিয়োজিত শ্রমিক ও ভাড়াটে মাস্তান বাহিনীর প্রায় ৩ শ সদস্য গাছ কাটা শুরু করে। তারা প্রায় ৫ একর বণাঞ্চলের সবগুলো গাছ কেটে ফেলে ভোর রাতের মধ্যেই। সকালে খবর পেয়ে রাব ও সীতাকুন্ড থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে। আটককৃতরা হলো, জয়নাল আবেদীন (৬০), মোঃ আলমগীর (২৮), মোঃ রুবেল (২৭), মোঃ সাহেদ (২৫), দিলীপ চন্দ্র নাথ (৩০) ও হারেছ মিয়া (৫৫)। তারা ঘোড়ামারা জোড়া আমতল গ্রামের বাসিন্দা। গাছ কাটার অভিযোগে আটক করা হলেও তারা নিজেদের নিরপরাধ বলে দাবি করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত একই সিন্ডিকেট আরো তিন দফায় বেডিবাঁধ ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২৫ হাজার গাছ কেটে নিয়েছে। গাছ কাটার ঘটনায় সীতাকুন্ড থানা পুলিশ ৬ শ্রমিককে আটক করেছে। তবে জড়িত রাঘব বোয়ালরা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বন বিভাগ জানিয়েছে, রাতে গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। সীতাকুন্ড উপজেলা বন কর্মকর্তা জামিল মোঃ খান জানান, দুর্বৃত্তরা ৫ একর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল থেকে ১ হাজার ৫৬০টি গাছ কেটে নিয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই কেওড়া গাছ।
উপকুলের লোকজনকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করতে ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে ঘোড়ামারা এলাকায় সরকারী ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে এসব গাছ লাগিয়েছিলো বন বিভাগ।
গাছগুলো কেটে নেয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের জীবন।
সীতাকুন্ড উপজেলা চেয়ারম্যান বাকের ভূইয়া বলেন, ঘোড়ামারা এলাকায় সবুজ বেষ্টনীর গাছ কেটে নেয়ার খবর আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে কেটে ফেলা গাছগুলো বন বিভাগের না ব্যক্তি মালিকানাধীন তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘোড়ামারা বেড়িবাঁধ এলাকায় শিপ ইয়ার্ড করার জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি কিনে নেয় বহুল আলোচিত স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা, তার ছেলে, নগর আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ ৫/৬ জন আওয়ামী লীগ নেতার একটি সিন্ডিকেট। তারা ৪টি শিপ ইয়ার্ড তৈরির জন্য সংলগ্ন জলমহাল ইজারা নিলেও বন বিভাগের গাছের জন্য এতদিন কোন স্থাপনা তৈরি করতে পারেননি। রোববার রাতে গাছ কাটার পরই শিপ ইয়ার্ড মালিকরা ওই এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে। এদিকে সোমবার বেলা ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপকুলীয় বনের বাঁশবাড়িয়া বিট কর্মকর্তা হাসান মিয়ার নেতৃত্বে কিছু বনরক্ষী কাটা গাছগুলি উদ্ধার করছে। বেশ কিছু গাছ কাটা হলেও এখনো শদুয়েক গাছ সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সীতাকূন্ড বন বিভাগের কর্মকর্তারা দাবী করেছেন, দূর্বৃত্তরা অনেক গাছ সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়েছে। এদিকে শনিবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত সীতাকুন্ডের ইকোপার্ক এলাকার পাহাড় থেকে বেশকিছু গাছ কেটে নিয়েছে। ইকোপার্কে কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্রপাল পাহাড়ে সমাজিক বনায়নের নামে রোপন করা গাছ কাটার সত্যতা স্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, সীতাকুন্ড উপকুল থেকে গাছ কাটার অভিযোগে এর আগে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সীতাকুন্ডের আওয়ামী লীগ এমপি আবুল কাসেমের ছেলে আল মামুন সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। পুলিশী তদন্তের পর তারা ওই মামলা থেকে রেহাই পান। উপজেলা বন কর্মকর্তা জামিল মোঃ খান জানান, গত ১ বছরে সীতাকুন্ড উপকুলীয় এলাকা থেকে প্রায় ২৫ হাজার গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। |
| |
|
| - সমুদ্রে দস্যূতা থেকে ফিশিং বোট রক্ষার দাবি |
2009-11-04 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
কক্সবাজার, bf¤^i ০৪ (চিটাগাংটুডে ডটকম) বঙ্গোপসাগরে জল দস্যূতার হাত থেকে ফিশিং বোটগুলোকে রক্ষার দাবী জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি। একই সাথে তারা অভিযোগ করেছে ট্রলারগুলো নির্বিচারে মাছ ধরে ধ্বংস্ করে দিচ্ছে সাগরের মতস্য সম্পদ। শুধু তাই নয় এই ট্রলারগুলো সাগরের পরিবেশ ও ধ্বংস করছে। বুধবার কক্সবাজারে প্রশাসনের সাথে মত বিনিময় সভায় এই অভিযোগ করেন জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে হিলডাউন সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তাগণ আরো বলেন, কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ করলেই হবে না, তৈরী ও বিপননও বন্ধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট গবেষণা ইনষ্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, সাগরে পোড়া তেল ফেলা হলে মাছের উতপাদন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি একটি চিংড়ি পোণা ধরার জন্য অন্তত ৯৯টি অন্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দুষণের কারণে সাগরে মাছের খাদ্য হ্রাস পাচ্ছে। বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা সময় হয়তো দেখা যাবে সাগরে আর মাছই পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন বছরের একটা সময় দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় ১০ দিনের জন্য মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন ফল আসবে না। দেশের সব এলাকাতেই ১০ দিনের জন্য মাছ শিকার বন্ধ রাখতে হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আহমদ, বোট মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ফিশিং ট্রলারের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ওয়ান স্টপ সার্ভিসএ নিয়ে আসার শুরু করা হবে। তাছাড়াও জেলেদের জন্য ভিজিএফ কার্ড করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য যোগান দেয়ার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। তবে তিনি প্রতিটি ট্রলারে দিক দর্শন যন্ত্র, রেডিও ও লাইফ জ্যাকেট রাখার অনুরোধ জানান। তিনি ফিশিং ট্রলারের পরিসংখ্যান তৈরির প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন আমরা তিন প্রকারের দস্যু নিয়ে কষ্টে আছি। এরা হলো ভূমিদস্যু, বনদস্যু ও জলদস্যু। ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অনেক কাজ করা হয়েছে। এবার জলদস্যুদের প্রতি নজর দেয়া হবে।
বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ivRŻ^) মোহাম্মদ শুকুর আলী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান ও বোট মালিক সমিতির পরিচালক শফিকুর রহমান কোম্পানী। সভা পরিচালনা করেন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ। |
| |
|
| - বঙ্গোপসাগরে সেন্টমার্টিন সংলগ্ন এলাকায় কাঁকড়ার মড়ক |
2009-10-12 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
কক্সবাজার, অক্টোবর ১২, (চিটাগাংটুডে ডটকম) কাঁকড়ার মড়ক দেখা দিয়েছে বঙ্গোপসাগরের সেন্টমাটিন দ্বীপ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। দ্বীপের দক্ষিনে ছেড়াদ্বীপের সৈকত ও পানিতে প্রতিদিনই অসংখ্য কাকড়া ভেসে উঠছে যার অধিকাংশই মৃত।
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনসে সমুদ্রে যে কোনো রকম দূষণের জন্য এ মড়ক দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ছেঁড়া দ্বীপের সন্নিহিত সেন্টমার্টিনস সৈকতে হাজার হাজার মরা কাঁকড়া ভেসে আসতে দেখা গেছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হাসিব স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ছেদ পড়ায় ওই এলাকার কাঁকড়াগুলো মারা পড়ছে। এর কারণ খুজতে গিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন কাকড়া মাঠির নীচে গর্তে বসবাস করে। ভূকম্পন অথবা অন্য কোন কারনে সমুদ্র তলের বিন্যাস পরিবর্তন হওয়ায় কাকড়াদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় বিঘ্ন ঘটছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের বিশ্বাস সমুদ্রে কিছু একটা হয়েছে। এই নিয়ে তারা কিছুটা শংকিত হলেও অনেকে কাঁকড়া খাবার এবং বিক্রির জন্য সংগ্রহ করছে। স্থানীয় জেলে মণীন্দ্র জলধর মনে করছেন, সমুদ্রের পানি দূষিত হওয়ার কারণে কাঁকড়ার মড়ক হয়েছে। স্থানীয় আরেক জেলে সুলতান আহমদ জানান, দ্বীপের উত্তর, পশ্চিম ও পূর্বদিকের চেয়েও দক্ষিন দিকে মরা কাঁকড়া বেশি দেখা যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন, বিরক্তিকর শব্দ বা কর্মকান্ড, জাহাজ থেকে বর্জ্য ডাম্পিং, পর্যটকদের দ্বারা সৃষ্ট দূষণ ইত্যাদি কারণে কাঁকড়াদের অভ্যাসে বাধার সৃষ্টি করেছে। জেলেরা মাছ ধরার সময় জালে আটকা পড়া কাঁকড়াগুলো ফেলে দেয়। ওগুলো ভাসতে ভাসতে সৈকতে আটকা পড়েছে। তবে সর্বপোরি সমুদ্রের মাটি ও পনি বিষাক্ত হয়ে যাওয়াতে কাঁকড়া মারা পড়ছে বলে তারা অনেকটা নিশ্চিত। আর এতে শুধু কাঁকড়া নয়, বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীও মারা যেতে পারে। বিশেষ্ঞরা বলছেন অবিলম্বে দ্রুত কারণ অনুসন্ধান করে এর প্রতিকার করা উচিত। না হলে বঙ্গোপসাগরের জীব বৈচিত্র নষ্ট হয়ে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। সেন্টমার্টিনস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফিরোজ আহমদ বলেন,সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে এখানে নানা রকম কর্মকান্ড চলছে। সম্প্রতি সময়ে মায়ানমারের বড় জাহাজগুলোর চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। এদেশের জাহাজগুলোও চলাচল করছে। এসব কারণে কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রাণী মারা যাচ্ছে বলে মনে হয়।
তিনি আরো জানান, গত শীতের শেষদিকেও মৃদু ভূমিকম্প হওয়ার পর বিভিন্ন মাছের মড়ক দেখা দিয়েছিল। |
| |
|
| - সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ |
2009-10-07 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
চট্টগ্রাম, ০৬ অক্টোবর (চট্টগ্রামটুডে ডটকম)- কূটনৈতিকভাবে সরকার আরও তৎপর না হলে দ্বিগুণ আয়তনের সমুদ্রসীমা বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এ এক কর্মশালায় বক্তরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশই প্রথম মেরিটাইম আইন পাস করে উল্লেখ করে এম এম রাজীব বলেন, ভারত ১৯৭৬ ও মিয়ানমার ১৯৭৭ সালে এ আইন পাস করে। তাই শুরুতেই দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে আজকের এই সমস্যা হতো না। আইন করার পর সরকার সমুদ্রসীমা নির্ধারণে ২০০১ সালে প্রাথমিক প্রচেষ্টা নিলেও বিষয়টিতে জোর দিয়েছে ২০০৮ সাল থেকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমডোর এম খুরশিদ আলম বলেন, "এ গবেষণা প্রকল্পের বিষয়বস্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আলোকেই সমুদ্রসীমা নিয়ে সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবে।" প্রকল্প গবেষক কমান্ডার ইয়াদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ন্যায় বিচার ও সমবণ্টন পদ্ধতি (ইক্যুইটেবল মেথড) অনুযায়ী সমুদ্রসীমা দাবি করছে। আর ভারত ও মিয়ানমার দাবি করছে সমদূরত্ব পদ্ধতিতে (ইক্যুইডিসটেন্স মেথড)। দাবি করা পদ্ধতিতে ২ লাখ ৭০ হাজার বর্গমাইল সমুদ্রসীমা পাবে বাংলাদেশ। আর ভারত ও মিয়ানমারের দাবি করা পদ্ধতিতে বাংলাদেশ এর তিন ভাগের একভাগ পাবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ১৯৮২ অনুযায়ী ভারতের দাবি করা পদ্ধতিটি কার্যকর হয় দুটি সামনা-সামনি দেশের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার পাশাপাশি দেশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দাবি করা সমবণ্টন পদ্ধতি কার্যকর। কিন্তু ভারত ও মিয়ানমার তা মানতে নারাজ। নৌ-বাহিনী কর্মকর্তা ইয়াদুল আরও বলেন, "বাংলাদেশের এই সমুদ্রসীমা পরিমাপে বেইজ লাইন থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোনের অধিকার নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি বলেন, এটা ভারত ও মিয়ানমারকে জানিয়েই করতে হবে। তবে এর বাইরে বেইজ লাইন থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান জাতিসংঘ ঠিক করে দেবে। সে বিষয়েও পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্তসহ ২০১১ সালের ২৭ আগষ্টের মধ্যে আমাদের দাবি জানাতে হবে। চবি আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শাহ আলম, আইন অনুষদের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল ফারুক, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির কমান্ডেন্ট এ টি জি এম সরকার, হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সেন্টারের পরিচালক কমান্ডার এম এন জি মুক্তাদির ও চবি মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. রাশেদ উন নবী। |
| |
|
| - সমুদ্রসীমা রক্ষায় মন্ত্রনালয় গঠনের দাবী বিশিষ্ট নাগরিকদের |
2009-07-26 |
|
 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
ঢাকা, জুলাই ২৫ (চিটাগাংটুডে.কম)- শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিক আশংকা প্রকাশ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলো তৎপরতার কারণে সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেশি ভারত আর মায়ানমারের এই দাবির সঙ্গে পাল্লা দিতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে "বিষয়টি সহজসাধ্য নয়। আর আমাদের এ সংক্রান্ত কোনও প্রতিষ্ঠানও নেই। সমুদ্র নিয়ে একটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তৈরি করা দরকার। তা না হলে কমপক্ষে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।" মিয়ানমার ও ভারতের দাবি জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী যুক্তিক নয় মন্তব্য করে এতে বলা হয়, সমুদ্রসীমার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারকেও আরো উদ্যোগী হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, , " ভারত ও মিয়ানমার তাদের সমুদ্রসীমানা চিহ্নিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে, অথচ আমাদের সরকার আসে আর যায়। "আমাদের ক্রান্তিকাল চলছে। তেল-গ্যাস, সমুদ্রবন্দর ও টিপাইমুখ নিয়ে সমস্যা বিদ্যমান। আবার সমুদ্রসীমার ওপরও অধিকার হারাতে বসছি।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, "স্বাধীনতার পর আমাদের সরকারগুলো সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় দায়িত্ব পালন না করার সুযোগে ভারত আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। "২০০১ সালের পর সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়ে কোনও উদ্যোগ দেখিনি। এ জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হলেও এ যাবত তাদের কোনও বৈঠক হয়নি। সমুদ্রসীমার বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরও কোনও নজর ছিল না।" জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এ অধ্যাপক বলেন, "ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে মিয়ানমার তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করছে। আর ভারত তাদের নিজেদের কাজ তো করছেই। উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশের আয়তনের চেয়ে তিনগুণ এলাকা ভারত ও মিয়ানমারের কব্জায় চলে যাবে।" বিচাপরতি গোলাম রব্বানী এক্ষেত্রে আইন সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে বলেন
"সমুদ্রসীমা নির্ধারণে ১৯৭৪ সালে যে আইন করা হয়েছিল তা ত্র"টিযুক্ত। এটি সংশোধন করতে হবে।"
বিচাপরতি গোলাম রব্বানী এক্ষেত্রে আইন সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে বলেন
"সমুদ্রসীমা নির্ধারণে ১৯৭৪ সালে যে আইন করা হয়েছিল তা ত্র"টিযুক্ত। এটি সংশোধন করতে হবে।"
তিনি বলেন, "ভারত ও মিয়ানমার যেভাবে দাবি করেছে, তাতে বাংলাদেশে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যে ২৮টি ব্লক নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বান করেছিল, মোটামুটিভাবে তার একটিও পাবে না। খুব বেশি হলে ২/৩ টি পেতে পারে। আর গভীর সমুদ্রে কোনও কর্তৃত্বই থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পানি বিশেষজ্ঞ ড. ইনামুল হক, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান প্রমুখ। |
| |
|
| - সুবিধা বঞ্চিত দক্ষিন কাট্টলি জেলেপাড়ার মানুষ |
2009-07-15 |
|
|
চট্টগ্রাম জুলাই১২(চট্টগ্রাম টুডে ডটকম) âদক্ষিন কাট্টলী জেলেপাড়াâ শহরের পিচঢালা পথের শেষ এখানে। নুড়ি বিছানো কাচা পথ ধরে এগোতে হয়। শহরের চেহারার সঙ্গে মেলেনা। একেবারে জৌলুশহীন। âপানির জন্য আমরা নলকূপ ব্যবহার করি, ওয়াসার লাইন এখানে নেই, আর মূল রাস্তা ধরে গ্যাস লাইন চলে গেলেও অধিকাংশ জেলের সামর্থ নেই গ্যাস লাইন নেওয়ার মতো।â বললেন জেলেপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় জেলে জয়দাশ। মদরগঞ্জ, লস্কর পাড়া, মধ্যমপাড়া, উত্তরপাড়া নামে চারটি পাড়া আছে এখানে। আয়তন প্রায় এক কিলোমিটার। লোকসংখ্যা দুই হাজারেরও বেশী। নগরের হালিশহর ফইল্যাতলী বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে জেলেপাড়া। পাড়ার রাস্তায় কথা হয় সুবল দাসের সাথে। প্রতিবছর জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা করে দেওয়ার কথা দেন ভোটের আগে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা একই থেকে যায়। স্থানীয় কানু শীল বলেন, পুরো জেলে পাড়ায় একটি মাত্র ডাস্টবিন আছে। ময়লা আবর্জনা উপচে পড়ে নালা খাল আর রাস্তার পাশে। এতে পানি নিশ্কাশন না হওয়ায় বর্ষায় রাস্তাঘাট ডুবে যায়। প্রতিবছর দাদন নিয়ে জাল কিনি, দাদনের টাকা শোধ করতে হয় মাছের বিনিময়ে। কিন্তু বাজারে আমরা যে দামে মাছ বেছি, দাদনদাতারা তার অর্ধেক দামে মাছ হাতিয়ে নেন। এদিকে জালচুরির সমস্যাও রয়েছে। কতৃপক্ষের কাছে নালিশ করেও ফল পাওয়া যায় না। এসব কথা যানান শঙ্কর দাশ। জানাগেছে বেশীরভাগ জেলেই জীবিকার তাগিদে পৈতৃক পেশা থেকে সরে আসছেন। কাজ নিচ্ছেন পোশক শিল্প কারখানায়। সাগরে মাছ কমে যাওয়া, দাদনদাতাদের হয়রানী, জালচুরী ইত্যাদি কারণে তারা বাধ্য হচ্ছেন পেশা পরিবর্তনে। জেলেপাড়ার ভেতরে রয়েছে ব্র্যাক স্কুল, বাসন্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসন্তী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আধা কিলোমিটার দূরে ফইল্যাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পিএইচ আমিন একাডেমি। জেলে পাড়ার ছেলে মেয়দের ঝড়ে পড়ার হার বেশী। পিএইচ আমিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক তরুন কুমার দাশ মণ্ডল বলেন, âআমাদের বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনীর একহাজার ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে জেলে পাড়ার ছেলে মেয়ে আছে ১০০-১৫০ জন। এর মধ্যে প্রতি বছর এসএসসি পরিক্ষার্থীর সংখ্যা দু/তিন জনের বেশী থাকে না। একই কথা বললেন বাসন্তী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধন শিক্ষক বিজয় লক্ষী চক্রবতী। তিনি জানান আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিবছর সাত-আটজন জেলে পাড়ার মেয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু পরীক্ষ দিতে পারে বড়জোর দু-তিন জন। ঝড়ে পড়ার কারণহিসেবে জেলেদের আর্থিক দুরবস্থা এবং পিছিয়ে থাকা মন-মানসিকতাকে দায়ী করেন। জেলে পাড়ার সত্যজিৰ দাশ কমার্স কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। তার কাছ থেকে জানা গেল গোটা পাড়ায় স্নাতক পাস করেছেন এমন শীক্ষার্থীর সংখ্যা <তকরা ১০-১৫ ভাগ হবে। এর মধ্যে মেয়েরা আরো পিছিয়ে। দারিদ্রের কারণেই তারা পড়াশোনার চেয়ে জীবিকার দিকে বেশী মনযোগী হয়। স্বাস্থ্যব্যাবস্থা : জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা দগেল ইউএনডিপির সহায়তায় তিন বছর আগে তারা কিছু স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা বরাদ্দ পেয়েছে। আর ছোটখাট অসুখ-বিসুখে ভরসা সিটিকর্পোরেশনের দাতব্য চিকিৰসালয়। সেখানকার চিকিৰসক আফরোজা রাবিয়া হাসানের সাথে কথা বলে জানা গেল, সাধারণ চিৰিসা সেবার পাশাপাশি গাইনি রোগীদের চিকিৰসা ও টিকাদানের ব্যবস্থ্যা ও রয়েছে। ২০টাকা দামের কার্ডের বিনিময়ে এসব সেবা দেওয়া হয়।
কাউন্সিলর যা বললেন : ১১নঙ দক্ষিন কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিদ্দিক আহাম্মদ চৌধুরী বলেন, বর্ষা শেষ হলেই রাস্তা পাকা করা কাজে হাত দেওয়া হবে। পানি নিস্কাশন সমস্যা সম্পর্কে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের লোকবল কম বলে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া জেলে পাড়ায় একটি ডাসইবন থাকলেও জেলেরা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলেন। তার মতে জেলেরা অতীতের চেয়েও বর্তমানে অনেক ভালো আছেন। |
| |
|
|
|
|
|
|
|