 বড় করে দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন |
ভারতের টিপাইমুখ প্রকল্প এলাকা না দেখেই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেও ভারতের প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারেনি এ প্রতিনিধি দল। এই দিকে বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে টিপাইমূখ বিষয়ে ভারত- বাংলাদেম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক ডাকার আহবান জানানো হয়েছে। বিবিসি বাংলা সার্ভিস জানিয়েছে, শুক্রবার একদফা চেষ্টার পর শনিবার আসামের রাজধানী গৌহাটি থেকে হেলিকপ্টার যোগে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি দ্বিতীয় বারের মত প্রকল্প এলাকায় গেলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে তারা সেখানে নামতে পারেনি। দ্বিতীয় দফায়ও টিপাইমুখে অবতরণের ঠিক আগে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় প্রস্তাবিত বাঁধের স্থানটি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা বাতিল করতে হয় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটিকে। বিএনপির সহসভাপতি হাফিজ রোববার বনানীর নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেন, "বিশেষজ্ঞ ছাড়া সংসদীয় দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন না করে শূন্য হাতে ফিরে আসছেন। তাই অবিলম্বে সরকারের উচিত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক আহবান করা। সেখানেই বাংলাদেশের জনগণের বলিষ্ঠ দাবি তুলে ধরতে হবে।" টিপাই মুখ এলাকা থেকে গৌহাটি ফিরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিবিসিকে বলেন, "সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা দেখতে না পারলেও সফর ব্যর্থ হয়েছে তা বলবো না, অনেকটা সফল হয়েছি। । অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলেছে তবে আরও জানার আছে।" বর্ষা মৌসুম শেষে বাংলাদেশকে আবারো প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। টিপাই মুখ পরিদর্শন নিয়ে আবদুর রাজ্জাক বিবিসি সাংবাদিককে বলেন, আপনি নিজেও দেখেছেন খুবই দুর্গম জায়গা। এখন প্রতিদিনই বৃষ্টি থাকে। গতকাল আমরা উপর দিয়ে ঘুরে এসেছি তবে নিচে নামতে পারিনি। আজকে পাইলট প্রায় আধাঘণ্টা সেখানে ঘুরেছেন। আমাদের দেখানো হলো। আমরা সেখানে দুই নদীর মোহনায় তেমন কোনো স্থাপনা দেখতে পাইনি। কিন্তু আমরা হেলিকাপ্টার থেকে নেমে সেখানকার কিছু লোকজনের সঙ্গে আলাপ করতে চেয়েছিলাম। সেটা হয়নি। সফরের ফলাফল সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান "আমাদের সাথে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেছেন আমাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া বাংলাদেশের স্বার্থ বিরেোধী কোন কিছু না করার ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যে আশ্বাস দিয়েছেন তা অটুট থাকবে বলেও কৃস্ঞা আমাদের জানেয়েছেন। এই প্রকল্প বাংলাদেশের স্বার্থের বিরোধী হলে অবশ্যই এর বিরোধিতা করা হবে। সফরের নানা বিষয় তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে জানিয়ে প্রতিনিধি দলটির প্রধান বলেন, "আমরা যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন জমা দেব। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। " গত বুধবার টিপাইমুখ প্রকল্প পরিদর্শনে ভারত রওনা হয় এ সংসদীয় প্রতিনিধি দলটি। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। প্রতিনিধি দলে সংসদ সদস্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুর রহমান, এবিএম আনোয়ারুল হক, জহির হোসেন, জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম। দলের অপর সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদুজ্জামান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এমরান আহমেদ। জামায়াতে ইসলামীর সাংসদ হামিদুর রহমান আযাদের নাম থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি সফরে যাননি। দেশে ফিরে তারা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। তিনি বলেছেন, এ ধরনের বিতর্কিত প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে এ অঞ্চরের মানুষকে অবশ্যই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বরাক নদীর ভাটিতে টিপাইমুখে ভারতের এ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব নিয়ে মণিপুর রাজ্য ও বাংলাদেশের পরিবেশবাদীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। |